
সংসার ভাঙা সাধারণ মানুষের জন্য ব্যক্তিগত বেদনার বিষয় হলেও, শোবিজ তারকাদের ক্ষেত্রে তা প্রায়ই বিশ্বব্যাপী আলোচনার জন্ম দেয়। কখনো রাজপরিবারের অন্দরমহলের টানাপোড়েন, আবার কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব—কিছু বিচ্ছেদ শুধু সম্পর্কের সমাপ্তি নয়, বরং সময়ের সঙ্গে স্মরণীয় ঘটনাতেও পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এবং ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া এমন কয়েকটি আলোচিত বিচ্ছেদের ঘটনা তুলে ধরা হলো—
১. প্রিন্সেস ডায়ানা ও প্রিন্স চার্লস
১৯৯৬ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের এই দম্পতির বিচ্ছেদ বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এটি ছিল শুধু একটি বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি নয়, বরং রাজতন্ত্রের ভাবমূর্তির ওপর বড় ধাক্কা। ডায়ানার ১৯৯৫ সালের সেই আলোচিত সাক্ষাৎকার, যেখানে তিনি দাম্পত্য জীবনে তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতির কথা বলেন, পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। অনেকের মতে, এই ঘটনাই তাদের সম্পর্কের চূড়ান্ত ভাঙনের ইঙ্গিত দেয়।
২. শেখা মাহরা ও শেখ মানা আল মাকতুম
২০২৪ সালে দুবাইয়ের রাজপরিবারে ঘটে যাওয়া এই বিচ্ছেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। বিয়ের এক বছরের মাথায় শেখা মাহরা ইনস্টাগ্রামে সরাসরি ‘তালাক’ ঘোষণা করেন এবং স্বামীর বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনেন। তার এই পদক্ষেপ মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। বিচ্ছেদের পর ‘ডিভোর্স’ নামে পারফিউম ব্র্যান্ড চালু করে তিনি বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দেন।
৩. সানিয়া মির্জা ও শোয়েব মালিক
ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা এবং পাকিস্তানের ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের বিচ্ছেদ ২০২৪ সালে ভক্তদের হতাশ করে। ২০১০ সালে তাদের বিয়ে দুই দেশের মানুষের কাছে এক ধরনের সৌহার্দ্যের প্রতীক ছিল। বিচ্ছেদের পর শোয়েব নতুন সম্পর্কে জড়ালেও, সানিয়া নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে শান্ত ও সংযতভাবে সামলাচ্ছেন এবং সন্তানের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছেন—যা অনেকের কাছে সম্মানের উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
৪. কিম কার্দাশিয়ান ও কেনিয়ে ওয়েস্ট
‘কিময়ে’ নামে পরিচিত এই তারকা জুটির সম্পর্ক ভাঙন ২০২১-২২ সালে বিশ্বমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়। বিচ্ছেদের পুরো প্রক্রিয়াটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে চলে আসে। কেনিয়ে ওয়েস্টের বিতর্কিত পোস্ট এবং কিমের সংযত প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে এটি ছিল এক অস্থির সময়। এই ঘটনা দেখিয়েছে, খ্যাতি ও সম্পদ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাঙন থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না।
৫. জনি ডেপ ও অ্যাম্বার হার্ড
হলিউডের এই তারকা জুটির বিচ্ছেদ আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ২০২২ সালের মানহানির মামলাটি সরাসরি সম্প্রচার হওয়ায় সাধারণ মানুষও তা কাছ থেকে অনুসরণ করে। পারস্পরিক অভিযোগ, অডিও-ভিডিও প্রমাণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে এটি ছিল বহুল আলোচিত একটি ঘটনা। শেষ পর্যন্ত এই মামলাটি দেখিয়েছে, এমন কিছু সম্পর্ক থাকে যেখানে কেউই প্রকৃত অর্থে জয়ী হয় না।
প্রতি / এডি / শাআ